https://ift.tt/eA8V8J
চট্টগ্রাম, ২৫ জুন- সীতাকুণ্ডে করোনার প্রকোপ দিন দিন বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে একের পর এক অসহায় মানুষ। তাই বিবেকের তাড়নায় করোনায় আক্রান্তদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে এগিয়ে এসেছেন সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন। পরিষদের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ভাটিয়ারী বিজয় সরণি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের তৃতীয়তলায় অস্থায়ীভাবে স্থাপিত এ হাসপাতালটির নাম দেওয়া হয়েছে ভাটিয়ারী করোনা আইসোলেশন ও চিকিৎসা কেন্দ্র। শুধু করোনা রোগী নয়, বর্তমানের করোনা রোগীর অজুহাতে যারা অন্যান্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাদেরও চিকিৎিসা দেওয়া হবে এ হাসপাতালে। বুধবার বিকেলে এ হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনের সাংসদ আলহাজ দিদারুল আলম। হাসপাতালটির উদ্যোক্তা ও ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ, বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীর, সমাজসেবক মো. জসিম উদ্দিন, মেম্বার কামাল উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন মাসুম, মাঈনউদ্দিন, শিল্পপতি কামাল উদ্দিন, সাংবাদিক সাইফুল মাহামুদ, কামরুল ইসলাম দুলু, বাবলা মিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। জানা গেছে, হাসপাতালটিতে থাকছে রিসেপশন, জরুরি বিভাগ ও অবজারভেশন ওয়ার্ড। আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এরই মধ্যে হাসপাতালের কাজ শেষ হয়েছে। এখন প্রতি বেডের সঙ্গে রয়েছে অক্সিজেন সুবিধা। ইতোমধ্যে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ছয়জন চিকিৎসককে প্রস্তুত করা হয়েছে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৯ জন নার্সসহ ৫৪ জন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী। এছাড়া আরও কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এখানে করোনা আক্রান্ত রোগীরা বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। স্থানীয় সাংসদ ও সমাজের বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতায় এ হাসপাতালটি পরিচালিত হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংসদ দিদারুল আলম বলেন, চট্টগ্রামে এখন করোনায় লণ্ডভণ্ড অবস্থা তৈরি হওয়ায় আমরা এটিকে করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল হিসেবে তৈরি করেছি। ভাটিয়ারী বিজয় সরণি কলেজ ক্যাম্পাসকে আইসোলেশন সেন্টার ও চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। হাসপাতালটি চালু করার জন্য সংশ্নিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের তথা সীতাকুণ্ডবাসীদের জন্য এ হাসপাতাল আশার আলো। করোনা রোগী ছাড়াও যারা চিকিৎসাবঞ্চিত হয়, তাদেরও চিকিৎসা দেওয়া হবে। ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডের ৭৫ বছর বয়সী হাজি ইব্রাহিম করোনা উপসর্গ থাকার কারণে একাধিক হাসপাতালে গেলেও ভর্তি করা হয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে মারা যান তিনি। এ ছাড়া অনেকে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইউনিয়নের করোনা আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘূরে অ্যাম্বুলেন্সে ও পথেই মারা যাচ্ছেন। তাই করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে আমরা এগিয়ে এসেছি। এম এন / ২৫ জুন
https://ift.tt/2B0wxCO

0 Comments